এক সময় যাদের পূর্বপুরুষদের প্রভাব ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যাজুড়ে-সেই পরিবারের বর্তমান বংশধরদের এখন নিজেদের নাগরিক পরিচয় প্রমাণ করতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় নবাব মীর জাফর-এর প্রায় ৩৪৬ জন বংশধরের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
এই ব্যক্তিরা আগে লালবাগ এলাকার একটি বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ভোটকেন্দ্রের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাদের নাম প্রথমে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং পরে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলী মির্জা, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ছোট নবাব’ নামে পরিচিত। তার পরিবারের আরও নয়জন সদস্য-যাদের মধ্যে তার ছেলে, একজন পৌর কাউন্সিলর-তাদের নামও বাদ পড়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
ছোট নবাব অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের সব কাগজপত্র দেখানোর পরও কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল যে নাম থাকবে। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় দেখি পুরো পরিবারসহ শত শত মানুষের নাম মুছে গেছে।’
তার ছেলে জানান, তাদের নাম বহু বছর ধরে ভোটার তালিকায় ছিল, এমনকি ২০০২ সালের তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন হঠাৎ কেন বাদ দেয়া হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না। এই পরিবারটি লালবাগের ঐতিহাসিক কেল্লা নিজামত এলাকার কাছে বসবাস করে, যেখানে এখনো নবাব পরিবারের অনেক সদস্য বসবাস করেন।
বংশধরদের দাবি, তাদের ভারতীয় পরিচয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। তারা উল্লেখ করেন, অতীতে তাদের বংশধরদের একজন দেশভাগের সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে এখন তাদের সামনে একমাত্র পথ হলো নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা। কিন্তু তাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিতে পারে এবং ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে সমস্যার সমাধান না-ও হতে পারে, ফলে তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এখনো বড় পরিসরে নাম বাদ পড়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়া হবে।
প্রধান সম্পাদক