সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ সারাদেশ জাতীয় আন্তর্জাতিক অর্থ ও বাণিজ্য খেলা চাকরি জীবনযাপন বিনোদন

নির্বাচনী সহিংসতা-অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বাড়বে : মঞ্জু

  • আপলোড তারিখঃ ১০-০৮-২০২৬ ইং
নির্বাচনী সহিংসতা-অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বাড়বে : মঞ্জু

নির্বাচনে সহিংসতা কমলেও অনিয়মের ধরন বদলেছে: মঞ্জু

নিউজফিল্ড রিপোর্ট:

২০২৬ সালের নির্বাচনে আগের তুলনায় প্রাণহানি ও সহিংসতা কম হলেও নির্বাচনী অনিয়ম এবং কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তিনি বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা না হলে ভবিষ্যতে নির্বাচনী অনিয়ম ও সহিংসতা আরও নতুন ও জটিল রূপ নিতে পারে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকার আয়োজিত এক অংশীজন সংলাপে এসব কথা বলেন মজিবুর রহমান মঞ্জু।

‘আগেই ফলের ধারণা তৈরি হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়’

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নির্বাচনের আগেই কারা ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে—এমন একটি ধারণা তৈরি হয়ে গেলে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ও মাঠ প্রশাসনের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তার দাবি, নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত যেখানে সুযোগ পেয়েছে, সেখানে প্রভাব বিস্তার করেছে। নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনেও বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী পক্ষগুলোর কারসাজি বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থেকে যাবে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কোনো কোনো এলাকায় প্রভাবশালী পক্ষ শান্তিপূর্ণ উপায়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার সুযোগ পেতে পারে।

শুধু সহিংসতা কমলেই নির্বাচন সুষ্ঠু নয়

মঞ্জু বলেন, নির্বাচনে সহিংসতা কমেছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হিসেবে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।

তার মতে, নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, প্রভাব বিস্তারের সুযোগ এবং নির্বাচন ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোও সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

ক্যাম্পাসের সহিংসতা নিয়েও সতর্কবার্তা

সংলাপে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরকারি ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাস ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিরোধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিণতি অতীতে কখনো ইতিবাচক হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সমাধানমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংলাপে বিভিন্ন দলের নেতারা

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, এনসিপি নেত্রী মুনিরা শারমিন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলিম, অধিকারের পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলান, তাসকিন ফাহমিনা এবং ইপিডির প্রকল্প পরিচালক অ্যানাস্তাসিয়া এস উইবাওয়াসহ বিভিন্ন অংশীজন বক্তব্য দেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী