সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ সারাদেশ জাতীয় আন্তর্জাতিক অর্থ ও বাণিজ্য খেলা চাকরি জীবনযাপন বিনোদন

ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে দুই পদ, আলোচনায় রিজভী

  • আপলোড তারিখঃ ১১-০৮-২০২৬ ইং
ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে দুই পদ, আলোচনায় রিজভী

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে, আলোচনায় রিজভীসহ কয়েকজন

নিউজফিল্ড রিপোর্ট:

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হতে পারেন—এমন আলোচনা ঘিরে বিএনপির ভেতরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন এবং তার সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এসব বিষয় নিয়েও দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যের ভাষ্য, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে আপাতত দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা ও দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেও মনে করছেন তারা।

তবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে মির্জা ফখরুল বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদও হারাবেন। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হওয়ার কারণে স্থায়ী কমিটির একটি পদ শূন্য হয়েছিল। ফলে সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের পর দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দুটি পদ শূন্য হতে পারে।

কাউন্সিলের আগে স্থায়ী কমিটিতে পরিবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, আগামী শীতকাল, অর্থাৎ নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বর মাসে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সে কারণে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে এই মুহূর্তে নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন মহাসচিব হিসেবে তুলনামূলক তরুণ ও কর্মীবান্ধব কাউকে বেছে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপরই নির্ভর করবে।

আলোচনায় রিজভী

দলীয় সূত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তার দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে দলের কয়েকজন নেতা মনে করছেন।

এ ছাড়া সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য শূন্য পদে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক এবং রুহুল কবির রিজভীর নামও আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

‘তরুণ ও কর্মীবান্ধব নেতাকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তুলনামূলক তরুণ কেউ মহাসচিব পদে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মীবান্ধব নেতাকেই এ পদের জন্য বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

তার মতে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দ এবং তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবেন—এমন কাউকেই শেষ পর্যন্ত মহাসচিব হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে।

রিজভী বলছেন, ‘দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে’

তবে নিজের সম্ভাব্য দায়িত্ব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়েই তিনি কাজ করছেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে রিজভী বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। দল তাকে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেটি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নীতিনির্ধারকরাই ঠিক করবেন।

‘রিজভীর সম্ভাবনাই বেশি’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা বেশি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের মধ্যে রিজভীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, রিজভীই যে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হবেন—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের চেয়ারম্যান চাইলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অন্য কাউকেও এ দায়িত্ব দিতে পারেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখের সম্ভাবনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার মন্ত্রিত্বও শূন্য হবে। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মন্ত্রিসভায় এ ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্পষ্ট হওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

উপনির্বাচন নিয়েও আলোচনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই আসনে সম্ভাব্য উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে মির্জা ফখরুলের পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হবে কি না, নাকি দলীয়ভাবে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।

সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে বিএনপির নেতৃত্ব, মন্ত্রিসভা এবং একটি সংসদীয় আসনে একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবে কী রূপ নেবে, তা নির্ভর করছে দলীয় সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর।



কমেন্ট বক্স
notebook

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী