শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ সারাদেশ জাতীয় আন্তর্জাতিক অর্থ ও বাণিজ্য খেলা চাকরি জীবনযাপন বিনোদন

প্যান্ডোরার বাক্স খুলেছে ইউক্রেন : ভ্লাদিমির পুতিন

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৮-২০২৬ ইং
প্যান্ডোরার বাক্স খুলেছে ইউক্রেন : ভ্লাদিমির পুতিন

রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলার জবাব দেবে মস্কো: পুতিন

নিউজফিল্ড আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে ইউক্রেন ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, রাশিয়াও দেশটির ‘সবচেয়ে স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক খাতে’ পাল্টা হামলা চালাবে।

রোববার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়ার বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বেড়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তেল শোধনাগার ও অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের গুদামও রয়েছে।

ইউক্রেনের দাবি, এসব অবকাঠামো রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই রুশ সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

‘প্যান্ডোরার বাক্স খুলে ফেলেছে ইউক্রেন’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনীতির ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা পাল্টা হামলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

তার ভাষ্য, এখন ইউক্রেনকে তাদের নিজ দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতগুলোতে রাশিয়ার সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়াও কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানিসহ দেশটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘বিশ্ববাজারে খাদ্য ঘাটতি হবে না’

ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুতিন দাবি করেন, এর ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট তৈরি হবে না।

তার মতে, ইউক্রেনীয় রপ্তানি কমে গেলেও রাশিয়া নিজস্ব শস্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম।

পুতিন বলেন, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সেগুলো সমাধান করা সম্ভব। বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

শস্য রপ্তানি চুক্তির প্রসঙ্গ

এর আগে কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য নিরাপদে রপ্তানি নিশ্চিত করতে তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তি মেনে চলত। তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া ওই চুক্তি থেকে সরে যায়।

বর্তমানে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শান্তি আলোচনায় এখনো প্রস্তুত মস্কো

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনের দেওয়া কয়েকটি প্রস্তাবকে ‘অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করে নিজের আগের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন পুতিন।

তিনি বলেন, মস্কো এখনো শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা অবশ্যই যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে ভিত্তি করে হতে হবে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই পুতিনের সর্বশেষ মন্তব্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নতুন করে সামনে এসেছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী