সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ সারাদেশ জাতীয় আন্তর্জাতিক অর্থ ও বাণিজ্য খেলা চাকরি জীবনযাপন বিনোদন

২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৮-২০২৬ ইং
২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল

‘২০২৪ ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের রিহার্সেল’: জামায়াত আমির

নিউজফিল্ড রিপোর্ট:

২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে জেগে ওঠা মানুষ এখনো সজাগ রয়েছেন এবং যেকোনো ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

‘২০২৪ ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় যারা জেগে উঠেছিলেন, তারা হারিয়ে যাননি কিংবা ঘুমিয়ে পড়েননি। তারা এখনো সতর্ক দৃষ্টিতে দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

তার ভাষ্য, মূল যুদ্ধের আগে বাহিনীকে প্রস্তুত করতে যেমন প্রশিক্ষণ ও মহড়া হয়, ২০২৪ সালের আন্দোলনও ছিল তেমন একটি প্রস্তুতি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তার দাবি, সেটি হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

‘ফ্যাসিবাদ সংক্রামক ব্যাধি’

জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো। তার মতে, যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই ‘ভাইরাসে’ আক্রান্ত হবে, তাদের আচরণেও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকারের পথ থেকে বর্তমান সরকারও সরে আসতে পারেনি। এই পথ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ এমন রাজনীতি মেনে নেবে না।

তার বক্তব্যে ‘আয়নাঘর’ এবং বিনা বিচারে হত্যার অভিযোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে।

জুলাই জাদুঘর নিয়ে প্রশ্ন

জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে ফেলার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি বলেন, সচেতন নাগরিকদের এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। তবে তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির নানা দুঃখজনক ঘটনা ও রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের যেসব উপাদান সেখানে সংরক্ষিত হয়েছিল, তার কিছু অংশ পরবর্তীতে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এসব পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

১৯৪৬-৪৭ সাল থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের স্মৃতিও সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

‘ইতিহাস বিকৃতির অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি’

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় এসে ইতিহাস পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসা প্রায় সবাই ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়েছে।

তার মতে, ইতিহাস নিয়ে এই ধরনের রাজনীতি থেকে এখনো কেউ বের হতে পারেনি।

দেলাওয়ার হোসেন ও ফেলানীর প্রসঙ্গ

ডা. শফিকুর রহমান ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন রিমান্ডে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং তার স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি উপাদানও জাদুঘর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিও সেখানে ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটিও পরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়েও হতাশা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত গতিতে বাংলাদেশ এগোতে পারেনি। বিশ্বে একটি দেশের নাগরিকদের মর্যাদা ও চলাচলের স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে পাসপোর্টের শক্তিকে উল্লেখ করে বাংলাদেশের অবস্থানকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



কমেন্ট বক্স
notebook

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী