রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ সারাদেশ জাতীয় আন্তর্জাতিক অর্থ ও বাণিজ্য খেলা চাকরি জীবনযাপন বিনোদন

বম্বে সুইটস ও বাঘাবাড়ী ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৮-২০২৬ ইং
বম্বে সুইটস ও বাঘাবাড়ী ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

খাঁটি ঘির নামে পাম অয়েল, মানহীন ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

নিউজফিল্ড রিপোর্ট:

খাঁটি ঘির নামে পাম অয়েল ও বনস্পতি ব্যবহার এবং রান্নার মসলায় অতিরিক্ত ছাই ও লবণ পাওয়ার অভিযোগে ১০টি পণ্য বাজার থেকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে এসব পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসটিআই।

পরীক্ষায় মানহীন বম্বে সুইটসের ৫ মসলা

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পাঁচ ধরনের মসলা বাংলাদেশি মানদণ্ড অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে।

পণ্যগুলো হলো—কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা এবং মাছের মসলা।

পরীক্ষায় এসব পণ্যে মোট অ্যাশ ও লবণের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।

‘ঘি’তে নেই নির্ধারিত মিল্ক ফ্যাট

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ী ব্র্যান্ডের ঘিতে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সংস্থাটির দাবি, পণ্যটিতে নির্ধারিত পরিমাণ মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি।

এর পরিবর্তে পাম অয়েল ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশি মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েল। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ী প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ী’ ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ঘি ও ‘সিটি’ ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ বাটার অয়েল।

পরীক্ষায় ধরা পড়েছে একাধিক মানদণ্ডে ব্যত্যয়

বিএসটিআই জানিয়েছে, এসব ঘি ও বাটার অয়েলের রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

সংস্থাটির নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। বেশিরভাগ পণ্যের মান ঠিক পাওয়া গেলেও এসব পণ্যে নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় ধরা পড়ে।

‘মান বজায় রাখা আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব’

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব।

কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে যা যাচাই করতে বলল বিএসটিআই

ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে বিএসটিআইয়ের হটলাইন ১৬১১৯-এ যোগাযোগ করতে অথবা dg@bsti.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইল করতে বলা হয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী