রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ সারাদেশ জাতীয় আন্তর্জাতিক অর্থ ও বাণিজ্য খেলা চাকরি জীবনযাপন বিনোদন

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি ২৭৩ মিলিয়ন ডলার, কমছে অর্থছাড় : ইআরডি

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৮-২০২৬ ইং
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি ২৭৩ মিলিয়ন ডলার, কমছে অর্থছাড় : ইআরডি

নতুন ঋণের চেয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ দ্বিগুণের বেশি, জুলাইয়ে চাপ বাড়ল

নিউজফিল্ড অর্থনীতি ডেস্ক:

বাংলাদেশে নতুন করে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ আসছে, পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে তার দ্বিগুণেরও বেশি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের তুলনায় ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।

রোববার (৩০ আগস্ট) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জুলাইয়ে ঋণ এসেছে ১৮০ মিলিয়ন ডলার, পরিশোধ ৪৫৩ মিলিয়ন

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বাংলাদেশকে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। বিপরীতে একই সময়ে আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে।

অর্থাৎ, নতুন ঋণ হিসেবে যত অর্থ এসেছে, তার প্রায় আড়াই গুণ অর্থ পুরোনো ঋণ পরিশোধে চলে গেছে।

এক বছরে ঋণ ছাড় কমেছে ১৩.৩৯ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের পরিমাণও কমেছে।

ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পেয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলারে।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে বৈদেশিক ঋণ ছাড় কমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

নতুন ঋণের অর্থছাড় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার নিট প্রবাহে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঋণ পরিশোধের চাপও বেড়েছে

অন্যদিকে নতুন ঋণ কমলেও পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপ কমেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল।

চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

বড় প্রকল্পের কিস্তি পরিশোধে চাপ বাড়ছে

আগে নেওয়া বিভিন্ন বড় প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসায় এখন নিয়মিত আসল ও সুদের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়ছে।

একদিকে নতুন প্রকল্পে অর্থছাড় প্রত্যাশিত গতিতে হচ্ছে না, অন্যদিকে পুরোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ বাড়ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থপ্রবাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নতুন ঋণপ্রবাহ ও পুরোনো ঋণ পরিশোধের মধ্যে ব্যবধান দেশের বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী