মহান বিজয় দিবসে বাংলাদেশ তার ৫৪তম বার্ষিকীতে পদার্পণ করল।

আপলোড তারিখঃ 2025-12-21 ইং
মহান বিজয় দিবসে বাংলাদেশ তার ৫৪তম বার্ষিকীতে পদার্পণ করল। ছবির ক্যাপশন:

১৬ ডিসেম্বর — বাঙালির চিরঅম্লান গৌরবের দিন। মহান বিজয় দিবসে বাংলাদেশ তার ৫৪তম বার্ষিকীতে পদার্পণ করল। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তঝরা সংগ্রামের পরিসমাপ্তি ঘটে; স্বাধীনতার সূর্য উদয় হয় বাংলার আকাশে। জাতি পায় তার কাঙ্ক্ষিত মুক্তি, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের পরিচয়। আজ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হবে। পৌষের কোমল রোদে ভরপুর প্রকৃতি, চারপাশে উৎসবের আমেজ। ফসলের মাঠে শ্যামলিমার সঙ্গে মিশে আছে বিজয়ের গাথা। এমন এক দিনেই বাঙালি ছিনিয়ে এনেছিল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।

বিজয়ের ৫৪ বছর পর নতুন প্রজন্ম আজ শপথ নিচ্ছে—সমাজে সাম্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার। দেশ গড়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে আশার পথে। আর পুরোনো প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা—রাষ্ট্রযন্ত্রে যেন আধিপত্যবাদ না থাকে, গড়ে উঠুক সর্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনও এবারের বিজয় উৎসবে বিশেষভাবে স্মৃতিতে ভাস্বর। ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর মানুষ আজ অপেক্ষায়—একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর নৃশংস হামলা চালায়। ট্যাংক, মেশিনগান নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত নগরীতে। সেই রাত থেকেই জ্বলে ওঠে প্রতিরোধের আগুন। মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশকে দিয়েছে যুদ্ধের দিকনির্দেশনা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক—সবাই অস্ত্র হাতে না নিয়েও প্রাণ পণ করে লড়াইয়ে নামেন। তাদের সামনে ছিল জীবন-মৃত্যুর সীমাহীন ঝুঁকি, পেছনে—মুক্ত বাংলার স্বপ্ন।

নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামে ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি, সম্পদের অপার ক্ষতি—সবকিছু অতিক্রম করে ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়। মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তস্নাত সংগ্রাম জাতিকে মুক্তি এনে দেয়। আজ আমরা সেই সব বীরকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, “বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে, পরমতসহিষ্ণুতা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।” প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ চিরকাল এই দিনটির জন্য গর্ববোধ করবে। ১৯৭১ সালের এই দিনেই বিশ্ব মানচিত্রে সংযোজিত হয় একটি স্বাধীন দেশের নাম।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার শুভেচ্ছা বার্তায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং জাতির অহংকার এই দিনে সকলের জীবন সুখ-শান্তিময় হওয়ার কামনা করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও দিবসটি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

দেশজুড়ে দিনটি পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে। সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা, বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। নিরাপত্তা বাহিনী সর্বত্র সচেতন দৃষ্টি রাখছে, বিশেষ করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গভবন ও কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে।

আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিই—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বিজয়ের মূল্যবোধকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব সকলের জন্য।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ সাজেদা আক্তার সাজু
ফোনঃ+৮৮০১৯০৯৬২৯১৯৩

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ সাজেদা আক্তার সাজু

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ সাজেদা আক্তার সাজু

বার্তা সম্পাদকঃ সাজেদা আক্তার সাজু


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ

অফিস ঠিকানাঃ সালাম ছালেহা প‍্যালেস
রোড নং-১
বাড়ি নং-২
গ্রাম/মহল্লাঃ পশ্চিম এমারগাঁও,
মধুসিটি হাউজিং সোসাইটি -১
কেরানীগঞ্জ , ঢাকা - ১৩২২

ইমেইলঃ newsfieldbd@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৯০৯-৬২৯১৯৩, ০১৯০৯৬২৯১৯৩(বার্তা-বিভাগ), ০১৯০৯৬২৯১৯৩(সার্কুলেশন)