বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মা-বোনদের কাছে আমাদের স্পষ্ট অঙ্গীকার, আপনাদের অবদানের প্রতিদান দেয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু আমরা দুটি জিনিস আপনাদের জন্য নিশ্চিত করতে চাই। একটি হলো সমাজের সকল স্তরে আপনাদের অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়টি আপনাদের নিরাপত্তা বিধান করা। ইনশাআল্লাহ, আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে পুরুষরা পাবে পুরুষের অধিকার, নারীরা পাবে তাদের ন্যায্য হক। কোনো জালেম আমাদের মা-বোনদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না। সেই নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তার পাড় থেকে সমুদ্রের পাড়, জাফলং থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সর্বত্র মুক্তির পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে ও মানবিক বাংলাদেশের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জও এর গর্বিত অংশীদার। মানুষ বিগত ৫৪ বছরে শাসন হোক আর দুঃশাসন হোক, তা দেখেছে। ওইটা দেখতে দেখতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এখন বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি আর দেখতে চায় না।’
জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধারা সবাই রাস্তায় নেমে বলেছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চাই। তার মানে হলো দেশে ন্যায়বিচার নেই। সেই ন্যায়বিচার আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রাজার জন্য যে বিচার, অন্য সকলের জন্য তা একই বিচার হবে। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে শাস্তি হবে, প্রেসিডেন্ট অপরাধ করলেও তাকে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। এই বিচার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী সকলের জন্য সমান হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিচার যখন কায়েম করা হবে তখন বাংলাদেশে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না। চাঁদাবাজির রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজদের ধরে এনে কাজে নিয়োগ করা হবে।’
বেকারত্ব প্রসঙ্গে জামায়াত আমিতে বলেন, ‘আমাদের দেশের যুবক-যুবতীরা বেকার ভাতার জন্য আন্দোলন করেননি। তারা হাতে হাতে কাজ পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা যুবক-যুবতীদের কাছে ওয়াদা করছি, তোমাদের হাতে অপমানের বেকার ভাতা তুলে দেব না। বরং তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ হাত বানিয়ে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেব। সেদিন তোমরাই দেশ গড়বে। বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের ককপিটে বসবে যুবক-যুবতীরা, আর আমরা বসব প্যাসেঞ্জারের সিটে।’চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, পুরো উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় হবে, যেখানে সংরক্ষণাগারের দরকার সেখানে সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে। আম ও লিচু প্রসেসিং করে সারাবছর বাজারজাতের ব্যবস্থা করা হবে এবং তা সারা বিশ্বে রফতানি করা হবে।’
নদী ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের নদীগুলোকে জীবন্ত করে তুলব। নদীভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নদীগুলোকে সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পদ্মায় যেখানে বাঁধ দিলে পানির ব্যবস্থা হবে, সেখানেই ব্যারেজ দেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত, নারীদের অপমানমুক্ত এবং আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের মূল্যবান ভোটটি চাই। আমরা কথা দিচ্ছি, আপনারা আপনাদের ভোটের আমানত দিয়ে আমাদের সাহায্য করুন, আমরা আপনাদের আমানতের কৃতজ্ঞতা আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
জেলা জামায়াতের আমিতে আবু জার গিফারীর সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমিতে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমিতে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি প্রমুখ।
সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন জামায়াতে ইসলামীর আমিতে ডা. শফিকুর রহমান।
প্রধান সম্পাদক