মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ সারাদেশ জাতীয় আন্তর্জাতিক অর্থ ও বাণিজ্য খেলা চাকরি জীবনযাপন বিনোদন

তারেক রহমানের সাংগঠনিক সভায় প্রবেশ কার্ড না পেয়ে ক্ষোভ

  • আপলোড তারিখঃ ১০-০৮-২০২৬ ইং
তারেক রহমানের সাংগঠনিক সভায় প্রবেশ কার্ড না পেয়ে ক্ষোভ

চট্টগ্রামে তারেক রহমানের সভায় কার্ড বিতরণ নিয়ে বিএনপিতে ক্ষোভ

নিউজফিল্ড রিপোর্ট:

চট্টগ্রামে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সভায় প্রবেশের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

নগরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দীর্ঘদিন ধরে মামলা, হামলা, গ্রেপ্তারসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা অনেক নেতাকর্মী প্রবেশের সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সাংগঠনিকভাবে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদ-পদবি না থাকা ব্যক্তিরাও কার্ড পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, প্রায় ৭০০ নেতাকর্মীকে সভায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও কারা এবং কোন প্রক্রিয়ায় কার্ড পেয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। এ কারণে সভায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া যাচাই এবং অনিয়ম বা পক্ষপাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষার অভিযোগ

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দল ও অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু নেতার ঘনিষ্ঠতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা অনেক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখার পরও গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে উপেক্ষিত হচ্ছেন।

তারেক রহমানের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের এই সাংগঠনিক সভায় প্রবেশের কার্ড বিতরণকে ঘিরে বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের কেউ কেউ কার্ড বিতরণে নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার অনুসারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও করেন।

হাটহাজারী, পটিয়া, আনোয়ারা এবং নগরের কয়েকটি ইউনিটের নির্দিষ্ট নেতাদের অনুসারীরা তুলনামূলক বেশি কার্ড পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

‘দলের দুঃসময়ে সাতজনও পেতাম না’

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী মুর্তজা খান বলেন, তার বিরুদ্ধে ১২৫টি মামলা হয়েছে এবং তিনি বছরের পর বছর কারাগারে ছিলেন।

কার্ড বিতরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে মিটিং, মিছিল ও হরতালে ৭০০ জন তো দূরের কথা, সাতজন কর্মীও পাওয়া যেত না। এখন ৭০০ জন যারা কার্ড পেয়েছেন, তারা কারা—এ প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।

তার অভিযোগ, ক্ষমতার পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর দলের কিছু নেতা আত্মীয়করণ এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

কার্ড পেয়েও সভায় যাননি বাদশা

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশাও কার্ড বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, রেডিসনে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় যারা প্রবেশের কার্ড পেয়েছেন, তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা উচিত। তিনি নিজে কার্ড পেলেও তার অনেক সহযোদ্ধা কার্ড পাননি বলে জানান।

এ কারণে সভায় না গিয়ে কার্ডবঞ্চিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, রাজপথই তার পছন্দ এবং সুবিধাবাদীদের সঙ্গে তিনি নেই।

মহিলা দলের নেত্রীদের কার্ড না পাওয়ার অভিযোগ

চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, মহিলা দলের অনেক সিনিয়র নেত্রী সভায় প্রবেশের কার্ড পাননি। অথচ সাংগঠনিকভাবে জুনিয়র এবং কোনো পদে না থাকা ব্যক্তিরাও কার্ড পেয়েছেন।

তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

‘দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মাত্র দুজন কার্ড পেয়েছেন’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, মামলা ও হামলা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে তারা দলের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অথচ দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মাত্র দুজনকে সভায় প্রবেশের কার্ড দেওয়া হয়েছে।

তার দাবি, সভায় এমন অনেক ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন, যাদের কোনো দলীয় পদ-পদবি নেই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আনোয়ারা উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তিকেও সভায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

ইকবাল হায়দার চৌধুরীর মতে, বিষয়টি রাজপথের নেতাকর্মীদের জন্য দুঃখজনক ও অপমানজনক। কার্ড বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে কারা তালিকা তৈরি করেছেন, কোন বিবেচনায় কাদের কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।

পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দাবি, সভায় অংশ নেওয়া প্রায় ৭০০ নেতাকর্মীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে কোন সাংগঠনিক ইউনিট বা নেতা কতজনকে কার্ড দিয়েছেন, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, তালিকা প্রকাশ করা হলে কার্ড বিতরণে কোনো অনিয়ম, পক্ষপাত বা স্বজনপ্রীতি হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সহজ হবে।

অভিযোগ নাকচ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতির

তবে কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করেছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া।

তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নির্ধারিত থাকায় সীমিতসংখ্যক নেতাকর্মীকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। অনেক নেতা কার্ড পাননি—এটা সত্য। তবে সবাইকে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। যাদের কার্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

‘১ থেকে ৩৩৫ জনকে কার্ড দিয়েছে মহানগর’

কার্ড বিতরণ নিয়ে মহানগর বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান।

তিনি জানান, মহানগর কমিটির পক্ষ থেকে ১ থেকে ৩৩৫ জনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় কোনো সমস্যা থাকলে তার দায়ভার মহানগর বিএনপি নেবে বলেও জানান তিনি।

তবে মহানগর বিএনপির তালিকার বাইরে আরও কয়েকটি পক্ষ কার্ড বিতরণ করেছে বলে জানান নাজিমুর রহমান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মহানগরের পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপিও কার্ড দিয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামীমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাও কার্ড দিয়েছেন। তারা কাদের কার্ড দিয়েছেন, সে বিষয়ে মহানগর বিএনপি অবগত নয় বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করেননি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক

কার্ড বিতরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ফলে কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়ায় অভিযোগ ওঠা বিষয়গুলো নিয়ে দলীয়ভাবে কোনো তদন্ত বা পর্যালোচনা করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



কমেন্ট বক্স
notebook

গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি