সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প
নিউজফিল্ড আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গোপনে বিমান বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওহাইওতে বিমানবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি সিক্রেট সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করেন। নিরাপত্তার কারণে তাকে অন্য একটি ফ্লাইটে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল এবং তিনি সেটিই মেনে নিয়েছেন।
ক্যাটারিং ট্রাকে করে গোপনে বিমান বদল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে ক্যামেরার সামনে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ উঠতে দেখা যায়। তবে কিছুক্ষণ পর কৌশলে বিমানের অন্য প্রান্ত দিয়ে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে তাকে গোপনে বিমান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর ট্রাম্পকে মার্কিন বিমানবাহিনীর সি-৩২এ সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হয়। এই বিমানটি সাধারণত ভাইস প্রেসিডেন্টের যাতায়াতেও ব্যবহৃত হয়।
এ সময় সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানেই অবস্থান করছিলেন। তাদের বিমানের জানালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধান
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের স্থানের আশপাশে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা যাওয়ার পর নিরাপত্তা সতর্কতা বাড়ানো হয়।
একই সময়ে ইরানের দিক থেকেও সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি নির্ভরযোগ্য হুমকি শনাক্ত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই ট্রাম্পের যাত্রাপথ ও বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হামলা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের গোপনে বিমান বদলের ঘটনার মাত্র এক দিন আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হয়। এর পরপরই ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির এমন উত্তেজনাপূর্ণ সময়েই ট্রাম্প তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হন। ফলে তার বিমান পরিবর্তনের ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক