কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ২৫০ ছাড়াল, চলছে উদ্ধার অভিযান
নিউজফিল্ড আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে তৃতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ভয়াবহ এই দুর্যোগের ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার।
বুধবার সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের স্মরণে দেশের সরকারি ভবন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা কলম্বিয়ার দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী
গত সোমবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি গত এক শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এতে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশকও অনুভূত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারি হিসাবে আহতের সংখ্যা ২ হাজার ৫৯৫ জন। তবে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত একটি ডেটাবেসে আহতের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা
দুর্যোগের তৃতীয় দিন শুরু হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর মতে, সাধারণত কোনো ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পর্যাপ্ত পানি ও খাবার পাওয়া গেলে কেউ কেউ আরও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারেন।
এ কারণে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দলগুলো দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।
ভারী যন্ত্রের পাশাপাশি খালি হাতেও উদ্ধার
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কুইবদোতে রাতভর উদ্ধার অভিযান চলে।
পেরেইরা ও কালিতে উদ্ধারকারীরা ক্রেন, ভারী যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও হাতে করে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধানে অংশ নিচ্ছেন।
কালি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দমকলকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোদাল, বেলচা এবং খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন।
হাসপাতালেও ভয়াবহ চাপ
ভূমিকম্পের কারণে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
কালি শহরের হসপিটাল ইউনিভার্সিটারিও দেল ভ্যায়ের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের কয়েকজন রোগীকে পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নিতে হয়। এমনকি কিছু রোগীকে হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হয়েছে।
মানুষের পাশে হাজারো স্বেচ্ছাসেবক
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয় মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ খাদ্য, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দুর্গত অঞ্চলে পৌঁছেছেন।
এ ছাড়া রক্তের চাহিদা পূরণে বিভিন্ন রক্তদান কেন্দ্রের সামনেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ভূমিকম্পের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, সেটিই এখন উদ্ধারকারী দলগুলোর সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
প্রধান সম্পাদক