মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ সারাদেশ জাতীয় আন্তর্জাতিক অর্থ ও বাণিজ্য খেলা চাকরি জীবনযাপন বিনোদন

ঘন ঘন লোডশেডিং, রাতে অন্ধকার নামে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে

  • আপলোড তারিখঃ ২০-০৮-২০২৬ ইং
ঘন ঘন লোডশেডিং, রাতে অন্ধকার নামে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দিনে ১২ বার পর্যন্ত লোডশেডিং

নিউজফিল্ড রিপোর্ট:

গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। পিডিবির দুটি জরুরি ফিডার সংযোগ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে বিমানবন্দরটিকে লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দিনে ১০ থেকে ১২ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে বিমানবন্দরের দৈনন্দিন বিভিন্ন কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরাও।

তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ চলে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় বিমান ওঠানামা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটছে না।

৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড অন্ধকারে থাকে বিমানবন্দর

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দরে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর নিজস্ব জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। তবে জেনারেটর চালু হতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড সময় লাগে।

বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে এই সময়টুকুতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশে অন্ধকার নেমে আসে। তবে অপারেশনাল যন্ত্রপাতিগুলোতে পৃথক আইপিএস ব্যাকআপ থাকায় বিমান চলাচলসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মূলত লাইটিং ব্যবস্থাতেই বেশি সমস্যা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় অর্ধেকে

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে।

চট্টগ্রামে স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য দৈনিক প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও কোনো কোনো দিন সরবরাহ ১৮০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গ্যাস সংকটের পেছনে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ ১৯ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে এলএনজি কার্গো সংকটের কারণে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও কমেছে।

আবাসিক ও শিল্প খাতেও প্রভাব

চট্টগ্রামের গ্যাস সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশন পেরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার খবরও পাওয়া গেছে।

‘অপারেশনাল কাজে কোনো জটিলতা হচ্ছে না’

বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা জানান, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। এর ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রমে সামান্য প্রভাব পড়লেও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পিডিবির দুটি জরুরি লাইন রয়েছে। এরপরও বিদ্যুৎ চলে গেলে নিজস্ব জেনারেটর চালু করা হয়। জেনারেটর চালু হতে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড সময় লাগে। এ সময় বিমানবন্দরের কিছু অংশ অন্ধকার হয়ে যায়।

তবে অপারেশনাল কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলোতে পৃথক আইপিএস ব্যাকআপ থাকায় বিমান চলাচল সংক্রান্ত কার্যক্রমে কোনো জটিলতা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, বর্তমানে মূল সমস্যা হচ্ছে বিমানবন্দরের লাইটিং ব্যবস্থায়।



কমেন্ট বক্স
notebook

গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি